শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ || সময়- ৯:৩৯ am
আবুল বাজনদার ফের অসুস্থ
বৃহস্পতিবার ১ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ , ১:০০ pm
Bajandar_prohor

প্রহরনিউজ, স্বাস্থ্য: বাংলাদেশের সেই যুবকের কথা মনে আছে? যাঁর অদ্ভুত হাত ও পায়ের গড়নে অবাক হয়েছিলেন সকলে! যাঁর আঙুলগুলি ঢাকা পড়েছিল শিকড়ে৷ খুলনা জেলার যে বাসিন্দা ‘বৃক্ষ-মানব’ নামে পরিচিতি পেয়েছিলেন, সেই আবুল বাজনদার কিন্তু একবার এক্কেবারে সুস্থ হয়ে গিয়েছিলেন৷ কিন্তু ফের তাঁর যা হাল হয়েছে, সে খবর মন খারাপ করে দেওয়ার মতোই৷

ওয়ার্টের সংক্রমণ থেকে আবুলের হাত-পা ফুলে ঠিক গাছের মতো দেখতে হয়ে গিয়েছিল৷ ধীরে ধীরে কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছিলেন আবুল৷ সেই সঙ্গে অসহ্য যন্ত্রণা৷ সুস্থ হতে গত বছর ১৬ বার অস্ত্রোপচারে হাতের ওজন প্রায় পাঁচ কেজি কমে গিয়েছিল৷ চিকিৎসকদের দক্ষতায় ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনেই ফিরে গিয়েছিলেন আবুল৷ স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভালই ছিলেন৷ কিন্তু মাস ঘুরতেই ফের সামনে এল নতুন একটি ছবি৷ যা চমকে দেওয়ার মতোই৷ আবার একই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন তিনি৷ ফের তাঁর হাতের তালুতে জন্ম নিচ্ছে সেই গাছের শিকড়ের মতো বস্তুটি৷ আর এতেই চিন্তিত চিকিৎসকরা৷

বিশ্বে ওয়ার্ট রোগে আক্রান্তের সংখ্যা এখনও পর্যন্ত চারজনের৷ এমন বিরল রোগ সাধারণত জিনগত কারণে হয়ে থাকে বলেই জানা যাচ্ছে৷

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, গত বছর ১৬টি অস্ত্রোপচারের পর সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গিয়েছিলেন আবুল৷ যা চিকিৎসা জগতের এক অন্যতম বড় সাফল্যও বটে৷ আর ওয়ার্ট রোগ সাধারণত দ্বিতীয়বার হয় না৷

সুস্থ হওয়ার পর বাংলাদেশি যুবক জানিয়ে ছিলেন, “অসহ্য যন্ত্রণা হত৷ কখনও ভাবিনি আমার সন্তান আমার হাত ধরতে পারবে৷ তবে জীবনের খারাপ দিনগুলোতে স্ত্রীকে পাশে পেয়েছিলাম৷ আর চিকিৎসকদের সাহায্যেই সুস্থ হয়েছি৷”

তবে ফের মাথাচাড়া দিচ্ছে সেই রোগ৷ সেই দুঃসহ যন্ত্রণা কি ফের থাবা বসাবে তাঁর জীবনে? আবার হাত-পায়ের আঙুল ঢেকে যাবে অদ্ভুত শিকড়ে? এমন চিন্তাতেই আতঙ্কিত আবুল ও তাঁর পরিবার৷