শনিবার ২৫ নভেম্বর ২০১৭ || সময়- ২:১৪ pm
ভিন্ন মোড়কে দাসপ্রথা
বুধবার ২৭ মে ২০১৫ , ১:৪৭ pm
Slavery_prohornews

রাজু আহমেদ
বর্তমান সভ্যতায় আমরা দাসপ্রথাকে সমাজ-প্রগতির অন্ধকার অন্ধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত করি । অনন্তকাল ধরে দাসপ্রথার কারণেই মানুষের মানবাধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে । মাত্র শতাব্দীকাল পূর্বেও বিভিন্ন দেশে চরম ঘৃণিত দাসপ্রথার অস্তিত্ব ছিল । সর্বশেষ ১৯৬৩ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে দাসপ্রথা নিষিদ্ধ হওয়ার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রথা বিলুপ্ত হলেও আদৌ কি দাসপ্রথার কবল থেকে পৃথিবীবাসী বিশেষত বাংলাদেশীরা মুক্তি পেয়েছে ? বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা বিবেচনায় দাসপ্রথার বিলুপ্তি ঘটেছে কতটুকু সে প্রসঙ্গে আসার পূর্বে দাসত্বপ্রথার আদি-অন্ত নিয়ে কিছুটা বলা দরকার । আজ যে দাসপ্রথাকে চরমভাবে ঘৃণা করা হয় তা একসময়ে পারিবারিক, সামাজিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জীবনের নিত্যকার অনুষঙ্গ ছিল । দাস রাখাকে আভিজাত্যের অংশ মনে করা হত । তখনকার সমাজে গুটি কয়েক দাস রাখা একটি সামাজিক মরর্য্যা দার ব্যাপার বলে স্বীকৃত ছিল । শুধু বিত্তশালীরাই নয় বরং বুদ্ধিজীবিরাও দাসপ্রথার পক্ষে ছিল । মহামতি এরিস্টটল এ প্রসঙ্গে বলেছিলেন, দাসপ্রথা প্রকৃতিরই নিয়ম । পৃথিবীর প্রারম্ভকাল থেকেই দাসপ্রথা চলে আসছে বলে ধারণা করা হলেও এ প্রসঙ্গে দালিলিক প্রমাণ মেলে গ্রিক সভ্যতা থেকে । ঐতিহাসিকদের ভাষ্যমতে, দাসত্বের ওপর ভিত্তিকরে গড়ে ওঠা প্রথম সমাজ হলো গ্রিক সভ্যতার সমাজব্যবস্থা । গ্রীক সভ্যতার সূচনা হয়েছিল যিশু খ্রিষ্টের জন্মের দুই হাজার বছর আগে মাইনোয়ান যুগে । হোমারের দুই মহাকাব্য (যা রচিত হয়েছিল ৭০০-৮০০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে) ইলিয়াড ও ওডিসিতে দাসত্ব ও দাসপ্রথার টুকটাক ছবি পাওয়া যায় । হোমার এবং হোসিয়ডের রচনা থেকে জানা যায়, গ্রিকরা দাসপ্রথাকে জীবনের স্বাভাবিক ঘটনা বলে ধরে নিত । তখনকার দিনে দাসদের সাথে ভালো আচরণ তো দূরের কথা তাদেরকে খাবার পর্যরন্ত দেওয়া হতোনা । পণ্যের মত দাস ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য স্বতন্ত্র বাজার ছিল । দাসের দক্ষতা ও সুস্বাস্থ্য ভেদে দর-কষাকষির মাধ্যমে দাস কেনা-বেচা হত । দাসদের বেশিরভাগ ছিল আফ্রিকান । আফ্রিকান দাসের মধ্যে হাবশি ও কাফ্রি’র চাহিদা ছিল বেশী । ভারতীয় উপমহাদেশেও দাসের কেনা-বেচা চলত । এ উপমহাদেশে সাধারণ দাস/দাসী ৫-৭ হাজার টাকায় বিক্রি হত । স্বাস্থ্যবান দাস বিক্রি হত ২০-২২ হাজার টাকায় । দাসদের দিয়ে মূলত কৃষি ও গার্হস্থ্যের কাজ বেশি করানো হত । দাসীদের ব্যবহার করা হত যৌন লোভ-লালসা পূরণের জন্য । গ্রিক সভ্যতা থেকে দাসপ্রথার উদ্ভব হলেও রোম সভ্যতা, বৌদ্ধযুগসহ সভ্যতার সকল পরতে-পরতে দাসত্ব প্রথার উপস্থিতি ছিল । তাইতো বলা হয়, দাসদের জীবন, রক্ত ও ঘামের ওপর ভিত্তি করে সকল সভ্যতার সূচনা হয়েছে ।

১৭৮৯ সালে ফরাসি বিপ্লবের পর দাসত্ব থেকে মুক্তির আন্দোলন আনুষ্ঠানিকভাবে দানা বাঁধতে শুরু করে । দাসত্বের কবল থেকে মুক্ত হয়ে দাসরা তাদের মানবিক অধিকার ফিরে পেতে ১৭৯১-১৮০৩ পর্যঠন্ত হাইতিতে বিদ্রোহ করে । ১৭৯১ সালের ২২ আগষ্ট দাসদের আন্দোলন দাবানলের মত ছড়িয়ে পড়ে এবং দাসকর্তৃক ১ হাজার ফরাসি প্রভূ হত্যা করা হয় । মূহুর্তেই দাসদের এ আন্দোলন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে । বর্তমান বিশ্বের প্রধান পরাশক্তি আমেরিকাই ছিল দাস নির্যারতনের তীর্থভূমি । ১৭৭৬ সালের ৪ঠা জুলাই গ্রেট-ব্রিটেন থেকে আমেরিকার স্বাধীনতা অর্জনে দাসদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকার পরেও দাসদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি । অবশেষে দাসপ্রথা বিলুপ্তির আন্দোলনে ১৮৬১ সালে আমেরিকায় গৃহযুদ্ধ শুরু হয় । এ গ্রহযুদ্ধে তৎকালীন আমেরিকার জনপ্রিয় নেতা (পরবর্তীতে অন্যতম সফল প্রেসিডেন্ট) আব্রাহাম লিঙ্কন দাসদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে ১৯৬৩ দাসপ্রথাবিরোধনীতি ঘোষণা করেন । গৃহযুদ্ধে আব্রহাম লিংঙ্কনের তথা দাসদের জয় হয় । অবশেষে আমেরিকান কর্তৃপক্ষ ১৮৬৫ সালের সংবিধানের ১৩তম সংশোধনীর মাধ্যমে আমেরিকায় দাসপ্রথা চিরতরে বিলোপের ঘোষণা করে । ১৮৪৩ সালে আক্ট ফাইভ আইন দ্বারা দাসদাসী আমদানী ও রপ্তানি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হলেও তা কার্য্করী হতে বিংশ শতাব্দীর শেষভাগ পর্য৮ন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে । জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী প্রতিবছর ২রা ডিসেম্বর পালন করা হয়, ‘ইন্টারন্যাশনাল ডে ফর দ্য এবলিউশন অব স্লেভার) । এদিন মূলত স্মরণ করা হয়, সভ্যতা বিকাশে দাসদের অবদানের কথা এবং ধিক্কার জানানো হয় গ্লানিময় এক ঘৃণিত প্রথার প্রতি । দাসত্বের সংজ্ঞা নিয়ে অবশ্য কিছুটা মতপার্থক্য রয়েছে । দাসত্বপ্রথা বিরোধী সংঘ ‘অ্যান্টি স্লাভেরি ইন্টারন্যাশনাল’ এর মতে, ‘জোড় পূর্বক শ্রম দেওয়া দাসপ্রথার শামিল’ । এ প্রতিষ্ঠানিটির মতে, বিশ্বে এখনো ২ কোটি ৭০ লাখ দাস রয়েছে । এই সংখ্যা ইতিহাসের যে-কোনো সময়কার দাসের তুলনায় বেশি । এমনকি প্রায় ৪০০ বছরের ইতিহাসে আফ্রিকা থেকে আমেরিকায় আনা আফ্রিকান দাসের সংখ্যাও এর প্রায় অর্ধেক ছিল । তবে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা জোড়পূর্বক শ্রম দেওয়াকে দাসত্ব হিসেবে বিবেচনা করেনা । তাদের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ জোড়পূর্বক শ্রম, দাসত্ব ও দাসত্ব প্রথার কাছে বন্দী ।

বাংলাদেশ থেকে প্রতিনিয়ত অবৈধভাবে এবং মরন ঝুঁকিসম বিপদসঙ্কুল পথে মানুষ পাচার হচ্ছে । এটাকে সরাসরি দাসপ্রথা বলা না গেলেও দাসপ্রথার ছদ্মবরণে দাসপ্রথা অনুরূপ ঘৃণিত কাজ হিসেবেই বিবেচ্য । সভ্য দুনিয়ায় এভাবে মানুষ পাচারের রীতি বস্তুত আদিম ও মধ্য যুগের দাসপ্রথাকেও হার মানায় । জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) মূখপাত্র অ্যান্ড্রিয়ান এওয়ার্ডস ৮মে জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে, ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে প্রায় ২৫ হাজারের মতো বাংলাদেশী ও রোহিঙ্গা মানবপাচারের শিকার হয়েছে । এ সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুন । প্রদত্ত তথ্যে আরও জানানো হয়, এ বছর প্রথম তিন মাসে অনাহার, পানিশূন্যতা এবং মানবপাচারকারীদের নির্যানতনে আনুমানিক ৩০০ জন সমুদ্রে মারা গেছেন । প্রতিষ্ঠানটির জরিপ মতে, গত তিন বছরে বঙ্গোপসাগর হয়ে নৌকার মাধ্যমে প্রায় দেড় লাখ বাংলাদেশী পাচার হয়েছে । সম্প্রতি থাইল্যান্ডের গহীন জঙ্গলে সন্ধান পাওয়া পাচার হওয়াদের গণকবর ও জীবিত উদ্ধার হওয়াদের থেকে প্রাপ্ত ভয়াবহ তথ্যে অতীতের দাসপ্রথাকে হার মানানোর মত হৃদয় বিদারক ঘটনা ফুঁটে উঠেছে । মানবপাচারে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া এবং এ কাজে কিছু প্রভাবশালীদের জড়িত থাকার কারণে ভয়াবহ এ ঘটনা বেড়েই চলছে । জীবনহানির শঙ্কা জেনেও যে মানুষ ট্রলার বা নৌকা যোগে দীর্ঘ সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে অন্যদেশে জীবিকার নিশ্চয়তায় ঝুঁকি নিচ্ছেন এজন্য শুধু দালাল, অবৈধ পথের যাত্রীদের দায়ী করা যায়না বরং দায়ভার রয়েছে রাষ্ট্রেরও । উন্নয়নশীল দেশটিতে প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে কর্মক্ষম বেকারের সংখ্যা । রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে দেশের অভ্যন্তরে নতুন কর্মস্থল সৃষ্টি না হওয়ায় প্রজন্মের একটি অংশ হতাশায় নিমজ্জিত । অন্যদিকে বাংলাদেশী শ্রমিকদের জন্য বৈধভাবে বিদেশের শ্রমবাজার দিন দিন সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে । এমনকি বাংলাদেশীদের জন্য কিছু দেশে ট্রানজিট ভিসাও একপ্রকার নিষিদ্ধ । সর্বশেষ সৌদির বৃহৎ শ্রমবাজার ছিল বাংলাদেশীদের জন্য উম্মুক্ত । কিন্তু তাও বন্ধ হয়ে গেছে প্রায় বছর ছয়েক পূর্বে । মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে কর্মরত বৈধ-অবৈধ শ্রমিকদের রাস্তা থেকে তুলে দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার মত ঘটনাও ঘটছে । আবার কিছু কিছু দেশে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক রাজনৈতিক উত্তপ্ততা ও সংঘাতের কারণে সেখানে শ্রমিকদের জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় কেউ স্বেচ্ছায় ফিরে আসছে আবার কেউবা বাধ্য হয়ে । সরকারিভাবে মালয়েশিয়ায় এক লাখ শ্রমিক নেওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন জটিলতায় তার এক-দশমাংশও পাঠানো সম্ভব হয়নি । বিভিন্ন ষড়যন্ত্র, কূটনৈতিক ব্যর্থতায় একের পর এক দেশের শ্রমবাজার বাংলাদেশীদের জন্য বন্ধ হয়ে যাচ্ছে । ওমরাহে যাওয়ার নাম করে বাংলাদেশের অনেক শ্রমিক ওমরাহ না করে পালিয়ে যাওয়ায় সৌদি আরব বাংলাদেশীদের জন্য ওমরাহের ভিসাও বন্ধ করে দিয়েছে । বিদেশ থেকে প্রেরিত রেমিট্যান্স কমে যাওয়ায় দেশের অর্থনীতির কি হাল হবে সেটা পরের কথা কিন্তু কর্মক্ষম বিপুল সংখ্যক বেকারের বোঝা বাংলাদেশ কিভাবে বহন করবে সেটাই এখন মূখ্য প্রশ্ন । দায়িত্বশীলদের ব্যর্থতার সুযোগে মানবপাচারে জড়িত দালালদের একেকজন মানবপাচারের রাজা/রানীর উপাধি পেয়েছে । থাইল্যান্ডের জঙ্গলে বাংলাদেশীদের গণকবরের সন্ধান পাওয়ার পর কক্সবাজার ও টেকনাফ সীমান্তে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা গত সপ্তাহ খানেক পূর্ব থেকে মানবপাচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে । এরপরেও প্রশ্ন থেকে যায় পথমতঃ অতীতে যারা মানবপাচারের সাথে জড়িত তাদের পাকড়াও করার কোন সংবাদ কিংবা কারো শাস্তি হয়েছে এমন খবর আমরা পাইনি কেন ? দ্বিতীয়তঃ কর্মক্ষম বেকারের সংখ্যা দিন দিন যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে তার ভার বহন করার ক্ষমতা কি আমাদের দেশের রয়েছে ?

বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্যমতে, স্থানীয় দালাল অর্থ্যাৎ যারা ঝুঁকিপূর্ণ অবৈধপথে বিদেশগমোনেচ্ছুদের উদ্বুদ্ধ করে তারা ৫-১০ হাজার টাকা এবং কক্সবাজার ও টেকনাফের দালালরা ২০-৩০ হাজার টাকা পায় । পাচার হওয়ার প্রত্যেকের কাছ থেকে ৩-৫ লাখ টাকা নেওয়া হয় । যাত্রাপথে নিয়মের বাহানা দিয়ে পাচার হওয়াদের কাছ থেকে তাদের সেলফোন, জুতা অর্থ্যাৎ পরিধানের বস্ত্র ব্যতীত সববিছু কেড়ে নেওয়া হয় । অর্ধাহারে কিংবা অনাহারে অভূক্ত রাখা হয় । সমুদ্রের দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে থাইল্যান্ডের জঙ্গলে আটকে রাখা হয় । যেখানে বেঁচে থাকার জন্য না আছে খাবার কিংবা ঘুমানোর জন্য না আছে বিছানা । মানবপাচারের বৃহৎ সিন্ডিকেড থাইল্যান্ড কেন্দ্রিক । থাইল্যান্ডের স্থানীয় কিছু অসাধু পুলিশের সহায়তায় পাচারও হওয়াদের একাংশকে বিভিন্ন অবৈধ কাজে জড়িয়ে দেওয়া হয় । যাদেরকে মালেয়শিয়া পাঠানোর চুক্তিকে নেওয়া হয়েছিল তাদের থেকে বাড়িতে যোগাযোগ করিয়ে আরও ২-৩ লাখ টাকার দাবী করা হয় । যাদের পক্ষে টাকা পাঠানো হয় তাদেরকে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করানো হয় এবং যাদের আত্মীয়স্বজন টাকা পাঠাতে ব্যর্থ হয় তাদের ঠিকানা হয় গণকবর । থাইল্যান্ডের জঙ্গলে চিহ্নিত কিংবা লুকায়িত শত শত গণকবরের বেশিরভাগগুলোতে যে বাংলাদেশীরা ঠাঁই পেয়েছে তাতে বোধহয় সন্দেহ নাই ।

মানবপাচার রোধে প্রশাসন বর্তমানে যেভাবে অবস্থান নিয়েছে এমন কঠোর অবস্থান সারা বছরব্যাপী ধারাবাহিক রাখা আবশ্যক । দেশব্যাপী মানবপাচারের সাথে জড়িত দাললাদেরকে চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করা হোক । মানবপাচার রোধে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে হবে সরকার এবং বিভিন্নদেশস্থ বাংলাদেশী কূটনৈতিক মিশনগুলোকে । যে সমস্ত দেশে বাংলাদেশী শ্রমিকদের জন্য শ্রমবাজার বন্ধ কিংবা সংকুচিত হয়েছে সেগুলোকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার পরাঙ্গমতা দেখাতে হবে । এক্ষেত্রে কূটনৈতিক সফলতা ছাড়া ভিন্ন কোন পথ আছে বলে মনে হয়না । বিদেশী বিনিয়োগকারীদেরকে কিভাবে দেশে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করা যায় তার জন্য সরকারকে চেষ্টা করতে হবে । কর্মক্ষম বেকারদের কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দিতে না পারলে মানবপাচারের মত অভিশাপ থেকে যেমন মুক্তি পাওয়া যাবে না তেমনি দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি-শঙ্খলার অবনতি ঘটতেই থাকবে । যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অবৈধ মরণসঙ্কুল পথে বিদেশে পাড়ি দিয়ে স্বনির্ভর জীবনের স্বপ্ন দেখছেন তারা জীবনের মূল্যের কথা ভাবুন । আপনি একটি পরিবারের ভরসা । আপনার জীবনহানী শুধু আপনাকে ক্ষতিগ্রস্থ করছে না বরং একটি পরিবারকে রাস্তায় বসাচ্ছে । দালালদেরকে ৩-৫ লাখ টাকা দিয়ে বিদেশে যাচ্ছেন অথচ এই টাকা দিয়ে এদেশে যে কোন কাজ করলে আপনার জীবন অনায়াসে হেসে-খেলে কেটে যাবে । নিজের জীবনের মূল্য নিজে না বুঝলে অন্যকেউ তা বুঝিয়ে দিতে পারবে-এমন সাধ্য কারো নেই । ভিন্ন রূপে দাসপ্রথা প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে কারো জীবনহানী কিংবা অমানবিক জীবন-যাপন কামনা করা পাপ । সভ্যতার আলোতে মানবপাচার চরম ঘৃণিত অন্যায় । সুতরাং এ অন্যায় রোধে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালন করতে হবে ।  

 

লেখক : কলামিষ্ট
raju69alive@gmail.com
 

 

 


প্রহরনিউজ/পাঠকের মতামত/তাহেরা/২৭ মে ২০১৫