শনিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ || সময়- ১২:৫০ am
সড়কে লাশ
সোমবার ৩ আগস্ট ২০১৫ , ১:১২ pm
mo‡K-jvk

সাইদুর রহমান সাইদুল
আমরা টেলিভিশন খুললেই দেখি, পত্রিকা খুললেই দেখি সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষের নিথর দেহগুলি পড়ে আছে ।এ মহা হত্যাকারীদের বিচার কে করবে?  একটা দুর্ঘটনা একটা পরিবারকে সারা জীবনের জন্য দুঃখের প্রদীপ ধরিয়ে দেয় । আর বিধাতার পরম করুনায় যারা বেঁচে যান, তারা পঙ্গুত্ব নিয়ে সমাজে করুনার পাত্র হয়ে বসবাস করেন।  সড়ক দুর্ঘটনায় জীবনের অপচয় যেন নিয়তির লিখন হয়ে দাঁড়িয়েছে।                 

 ট্রাফিক ব্যবস্থার হতশ্রী অবস্থা ও চালকদের বেপরোয়া মনোভাব অধিকাংশ সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী।পথচারীদের অজ্ঞতার কারণে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপারের সময়ও দুর্ঘটনা কখনো কখনো অনিবার্য হয়ে দাঁড়ায়।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বাংলাদেশে প্রতিদিন সড়ক ৫৫ জনের মৃত্যু ঘটছে। বছরে এ সংখ্যা ২০ হাজারেরও বেশি। বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের মতে, বছরে গড়ে ১২ হাজার লোক নিহত ও ৩৫ হাজার লোক আহত হন। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী এশিয়ার প্যাসিফিক অঞ্চলের ১২টি দেশের মধ্যে প্রতি ১০ হাজার যানবাহনে বাংলাদেশে নিহতের হার সর্বোচ্চ এবং এ সংখ্যা ১৬৯ জন। সড়ক দুর্ঘটনা দেশের অর্থনীতির জন্যও ডেকে আনছে সর্বনাশ। এক্ষেত্রে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির দুই শতাংশ। 

বাংলাদেশের ৩৪৯২ কি.মি রাজপথ এবং ৪২৬৮ কি. মি আঞ্চলিক পথ,  এই ঈদে   মৃত্যু কূপে পরিণত হয়েছে। বর্তমান সরকার সড়কের অবকাঠামোগত লক্ষনীয় উন্নয়ন করেছেন। কিন্তু ঈদে সড়ক দুর্ঘটনায় অগণিত মান্ষু লাশ  হওয়াতে  সরকারে লক্ষনীয় উন্নয়ন এখন প্রশ্নবিদ্ধ। ঈদে মান্ষু নাড়ীর টানে আর মাটির মায়ায়,  ছুটে চলে শিকড়ের কাছে। 

চলতি বছর ঈদুল ফিতরের ছুটিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় অসংখ্য মান্ষু প্রাণ হারিয়েছে। ঈদে সড়ক দুর্ঘটনা  প্রতি বছরেই বৃদ্ধি পাচ্ছে । 

সড়ক দুর্ঘটনায় এ দেশে প্রতি বছর চার হাজারেও বেশী মান্ষুকে  সাদা কাপড়ে চিরবিদায় দিতে হয়। সাদা কাপড়ে শুধু মান্ষুটাকে সমাহিত করি না, সমাহিত করি তার জীবনের সমস্ত স্বপ্ন এবং ভবিষৎকে।  কেন ??  রাষ্ট্র দুর্ঘটনা রোধে তড়িৎ পদক্ষেপ নিচ্ছে না।  সড়ক দুর্ঘটনারোধে রাষ্ট্রকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে । অন্য গুলি মূখ্য বিষয় নয় । রাস্তার অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন সরকারকেই করতে হবে ।         

বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের মতে, মহাসড়কের ৪ শতাংশ এলাকায় শতকরা ৩৫ ভাগ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার কারণে বার্ষিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৭হাজার কোটি টাকা।  শতকরা ৬৯শতাংশ দুর্ঘটনার জন্য বেপরোয়া বাস ও ট্রাক চালকরা দায়ী।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান গুলি মনে করে, অপ্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় গড়ে ওঠা অদক্ষ চালকদের কারণেই একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে।       

শুধু অদক্ষ চালক দায়ী কেন ?? দক্ষ চালক যখন বেশী অর্থ পাওয়ার লোভে রাতের পর রাত র্নিঘুম রাত কাটিয়ে গাড়ি চালায়।  তখন দক্ষতা দিয়ে কি হবে ??  বাংলাদেশের সড়কে অবৈধ হাট -বাজারের জন্য ২৮% সড়ক দুর্ঘটনা হয় আর রাস্তার মোড়ের জন্য হয় ১৮ %। আগে বের করতে হবে।  কেন, কোথায় এবং কি কারনে দুর্ঘটনা হচ্ছে??  ব্ল্যাকস্পট নির্ণয় করতে হবে । 

আমাদের প্রতিটি সড়কে  নসিমন, বডবডি, করিমন, নানা রকমের ইঞ্জিল চালিত পরিবহণ দুর্ঘটনার বিরাট কারন ।  সড়ক দুর্ঘটনার জন্য অধিকাংশ ক্ষেত্রে চালকদের বেপরোয়া আচরণ আর ওভারটেকিং  দায়ী হলেও চালকদের জবাব দিহিতার মধ্যে আনার কোনো ব্যবস্থা নেই। 

বাস-ট্রাক মালিক ও চালকদের শক্তিশালী সংগঠনের সঙ্গে আইনশৃৃঙ্খলা বাহিনীর ঘুষের সম্পর্কের কারণে সড়ক দুর্ঘটনায় একের পর এক প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও এ জন্য সংশ্লিষ্ট চালকদের শাস্তির সম্মুখীন হওয়ার ঘটনা একেবারেই বিরল। আইনের ফাঁক গলিয়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঘাতক যানবাহন চালকরা পার পেয়ে যায়। সড়ক দুর্ঘটনায় যেভাবে জীবনের অপচয় ঘটছে তা দুর্ভাগ্যজনক। আমাদের মতে, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে দায়িত্বশীলতার কোনো বিকল্প নেই। চালক হোক আর যাত্রী কিংবা পথচারী হোক দুর্ঘটনা রোধে সবার মধ্য দায়িত্বশীলতা গড়ে উঠলে প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষের অকাম্য মৃত্যুর মিছিল থামিয়ে দেওয়া যাবে। “নিরাপদ সড়ক চাই” স্লোগান শুধু ঘরের কোণে অথবা সেমিনারে দিলে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা যাবে না। এর জন্য রাজপথে আন্দোলন করতে হবে । মিছিল করতে  হবে “সড়কের লাশ দেশের অর্থনেতির সর্বনাশ”। 

আমরা সকলেই  সাবধানে রাস্তা পারাপার হবো এবং অতিরিক্ত যাএী হিসাবে বাসে উঠবো না । 

লেখক: সাবেক এজিএস, শহীদ স্মৃতি আদর্শ কলেজ ছাত্রসংসদ, নান্দাইল, ময়মনসিংহ। 

 

প্রহরনিউজ/পাঠকের মতামত/তাহেরা/৩ আগস্ট, ২০১৫